রেজওয়ানা হক বন্যা,পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি ::
পার্বতীপুরে
তহমিনা আক্তার নামে এক গামেন্টেস কর্মী স্বামীর দেওয়া আগুনে অগ্নিদগ্ধ হয়ে
মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। চিকিৎসা খরচের অভাবে তহমিনাকে বাড়ীতে এনে
রেখেছেন তার পিতা তছলিম উদ্দিন। খবর পেয়ে সোমবার পার্বতীপুর থানা পুলিশ তহমিনাকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেছে।
জানা
যায়, পার্বতীপুর পলাশবাড়ী ইউনিয়নের পন্থাপাড়া গ্রামের তছলিম উদ্দিনের মেয়ে
তহমিনার বিয়ে হয় চট্ট্রগ্রামে। তারা থাকতেন চ্ট্র্গ্রামের পাহাড়তলী থানা
শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আকবর শাহ মাজার শরীফের পশ্চিমে। স্বামী ভার্টেক্স ও
স্ত্রী সাগরিকা গামেন্টসএ কর্মরত ছিল। দাম্পত্য কলহের জের ধরে স্বামী জসিম
উদ্দিন গত ৩০ অক্টোবর গভীর রাতে গায়ে কেরোসিন ঢেলে তহমিনার শরীরে আগুন
ধরিয়ে দেয়। অগ্নিদগ্ধা তহমিনা জানান, অগ্নিকান্ডের দিন রাতে স্বামী তাকে চা
খাওয়ালে সে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। এরপর গভীর রাতে সে অগ্নিদগ্ধ হলে তার
ভাসুর ও ননদ তাকে চট্ট্রগ্রামের চকবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে।
বাবা
তছলিম উদ্দিন জানান, খবর পেয়ে তিনি হাসপাতালে যান এবং মেয়ের চিকিৎসা
ব্যবস্থা তদারকি করেন। মেয়ের চিকিৎসা খরচ চালাতে না পারায় এবং মেয়ে মারা
গেলে লাশ পার্বতীপুর আনতে সমস্যা হবে বিধায় হাসপাতাল থেকে গত শুক্রবার
পার্বতীপুরে এনে বাড়ীতে রাখা হয়েছে। নিরাপত্তার অভাবে পাহাড়তলী থানায় কোন
অভিযোগ বা মামলা করেননি তিনি। এব্যাপারে অভিযুক্ত স্বামী জসিম উদ্দিন গতকাল
সোমবার দুপুরে মোবাইল ফোনে জানান, দুর্ঘটনা বসত তহমিনা অগ্নিদগ্ধ হয়েছে।
তবে বিষয়টি পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়নি। এব্যাপারে পার্বতীপুর থানার ওসি
শওকত আলী বলেন, খবর পেয়ে দিনাজপুর এডিশনাল পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান
অগ্নিদগ্ধ মহিলাটিকে দেখতে এসেছিলেন। তার উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করার
জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশ দিয়েছেন।