BBC সংবাদ

বুধবার, ১৮ জুলাই, ২০১৮

বৃহস্পতিবার, ২২ নভেম্বর, ২০১২

বিএনপি সংসদে ফিরছে

এফএনএস : সংসদে ফেরার সিদ্ধান্তই বিএনপি নিতে যাচ্ছে বলে দলের নীতি-নির্ধারকরা আভাস দিয়েছেন। তবে কবে তারা অধিবেশনে যোগ দেবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
স্পিকার আবদুল হামিদ সংসদ বর্জন করতে থাকা বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে গত বুধবার সেনাকুঞ্জে আলাপের সময়ও খালেদা জিয়াকে সংসদে ফেরার অনুরোধ করেন। বিএনপির একাধিক সংসদ সদস্যও বলেছেন, সংসদে ফেরার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছেন খালেদা জিয়া।

বিএনপি চেয়ারপারসন সেই অনুরোধ বিবেচনার প্রতিশ্র�তি দিয়েছেন বলেও স্পিকার সাংবাদিকদের জানান। বর্তমানে নবম সংসদের পঞ্চদশ অধিবেশন চলছে। গত ১৪ নভেম্বর অধিবেশন শুরুর দিনেও বিরোধী দলকে সংসদে ফেরার আহ্বান জানান স্পিকার। সংসদে কথা বলতে দেয়া হয় না অভিযোগ তুলে বিএনপি অধিবেশন বর্জন করে আসছে। নির্দলীয় সরকারের বিল সরকার উত্থাপন করলে তারা সংসদে ফিরবে বলেও প্রকাশ্যে জানিয়েছে।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক সংসদ সদস্য বলেছেন, সংসদে গিয়ে সরকারের �ব্যর্থতা� তুলে ধরবেন তারা। কথা বলতে না দিলে জনগণ বুঝবে, সরকারই বিরোধী দলকে সংসদে দেখতে চায় না।সেনাকুঞ্জে সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায় খালেদা জিয়াকে।

বিরোধী দলীয় নেতার সঙ্গে কী কথা হয়েছে- জানতে চাইলে স্পিকার সাংবাদিকদের বলেন, আমি বিরোধীদলীয় নেতাকে সংসদে আসতে অনুরোধ করেছি। তিনি বলেছেন, বিবেচনা করে দেখবেন। টানা ৮৩ দিন অনুপস্থিতির পর সর্বশেষ গত ১৮ মার্চ সংসদ অধিবেশনে যোগ দেয় বিএনপিসহ বিরোধী দল। এর আগে গত বছরের ২৪ মার্চ বিএনপি সংসদে যোগ দিয়েছিল।

চলমান পঞ্চদশ অধিবেশন ২৯ নভেম্বর শেষ হচ্ছে। সেদিন যদি যোগ না-ও দেয়, এর পরে শীতকালীন অধিবেশনেই বিএনপির সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে দেখা যাবে বলে আভাস মিলেছে। বিএনপির দলীয় বিভিন্ন ফোরামে সংসদে ফিরে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সম্প্রতি সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকেও এই বিষয়টি আলোচনায় ওঠে।

নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের দাবিতে বিএনপি আন্দোলন করে এলেও এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো সাড়া মেলেনি, বরং বলা হচ্ছে, দলীয় সরকারের অধীনেই হবে আগামী নির্বাচন। দুই সপ্তাহ আগে ঢাকায় অবস্থানরত ১২ জন সংসদ সদস্যের সঙ্গে গুলশানের কার্যালয়ে বৈঠক করেন খালেদা জিয়া। এই বৈঠকেও সংসদে ফিরে যাওয়া নিয়ে আলোচনা হয় বলে একাধিক সংসদ সদস্য জানিয়েছেন।

তারা বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা দলীয় সংসদ সদস্যদের মতামত শুনেছেন। অধিকাংশ সংসদ সদস্যই সংসদে যোগ দিয়ে সরকারের �ব্যর্থতা� তুলে ধরার পক্ষে বলেছেন। �সরকারি দল কথা বলতে না দিলে প্রতিবাদ করে আমরা ফিরে আসব। তারপরও সংসদে যাওয়া উচিত। আর বর্তমান পরিস্থিতিতে সংসদে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে ম্যাডামকে ইতিবাচক মনে হয়েছে,� বলেন বৈঠকে অংশ নেয়া এক সংসদ সদস্য।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করে আসছেন সংসদে তাদের বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দেয়া হয় না, যদিও সরকারি দলের পক্ষ থেকে তা নাকচ করা হচ্ছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার বলেন, �আমরা সংসদে ফিরে যেতে চাই। কিন্তু সরকারি দল সংসদের পরিবেশ এমন করে ফেলেছে যে সেখানে জনগণের সমস্যা নিয়ে কথার বলার কোনো সুযোগ নেই।�

বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, গত ৪ বছরে বিএনপিসহ বিরোধী দলের সদস্যরা এক হাজারের অধিক জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনার জন্য মূলতবি প্রস্তাব জমা দিলেও স্পিকার তার একটিও গ্রহণ করেননি। সংসদে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে দলের সংসদীয় পার্টির সভায় সিদ্ধান্ত হবে, বলেন তিনি।